বরিশালে অস্ট্রিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই সাইদুল ইসলাম বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রবাসী মুরাদুল ইসলাম (৩০) গত ৫ নভেম্বর অস্ট্রিয়া থেকে ছুটিতে দেশে ফেরেন। তার ভাইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, বাউফলের বাসিন্দা বশির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি মুরাদুলের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাত করেন। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে বশির উদ্দিন প্রবাসী মুরাদুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে মুরাদুলের পরিচিত রিয়াদ হোসেন তাকে রূপাতলীতে দেখা করার কথা বলে ডেকে নেন। পরে চৌধুরী ভিলার একটি টিনসেড ভবনে নিয়ে গেলে সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত সুমন, লোকমান, সজল, রেজাউল, মাহিসহ কয়েকজন মিলে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
আরও
অভিযোগে আরও বলা হয়, অপহরণকারীরা এক অজ্ঞাত প্রতিবন্ধী যুবককে এনে মুরাদুলকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করে এবং ঘটনাটি ভিডিও করে রাখে। পরে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তারা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ সময় তারা মুরাদুলের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, একটি ডায়মন্ড রিং ও একটি রুপার ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেয়। মুক্তিপণের অংশ হিসেবে তার পরিবারের সদস্যদের বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়।
অবশেষে, আসামিরা মুরাদুলকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় বাদী সাইদুল ইসলাম ধাওয়া করে লোকমান নামে এক আসামিকে আটক করেন এবং পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় অপর এক আসামি সুমন পালিয়ে যায়। মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন, বশির উদ্দিনের সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের মামলার প্রতিশোধ নিতেই তার ভাইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।












