পারিবারিক কলহ ও সম্পর্কের জটিলতা থেকে জন্ম নেয় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। পছন্দের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে না হওয়া, প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে পিতা ও ভাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক—সবকিছুর প্রতিশোধ নিতে শেষ পর্যন্ত নিজের বাবাকেই খুন করলেন মো. ফারুক (২৭)। সোমবার (১০ নভেম্বর) আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ লোমহর্ষক ঘটনার স্বীকারোক্তি দেন তিনি।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিহত মতিউর ইসলাম (৫৫) চাপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হারিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। সম্প্রতি পুত্র ফারুকের সঙ্গে কাজের সন্ধানে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চগ্রামে আসেন। সেখানে রসুন বপনের কাজ করছিলেন দু’জন।
আরও
রবিবার রাতে খাবার শেষে বাবা-ছেলে একই ঘরে ঘুমাতে যান। রাত ১০টার দিকে মতিউর ইসলাম ফোনে প্রাক্তন পুত্রবধূর সঙ্গে কথা বলছিলেন। পাশের ঘরে বসে সিগারেট খাওয়ার সময় এ দৃশ্য দেখতে পান ফারুক। রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে বাবা ঘুমিয়ে পড়লে তিনি আগে থেকে লুকিয়ে রাখা কোদাল দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ১৭টি আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশের পাশে বসে সিগারেট টানতে থাকেন ফারুক।
চিৎকার শুনে বাড়ির মালিক ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মতিউরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় নিথরভাবে বসে থাকা ফারুককে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে শিবচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত কোদালসহ রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। নিহতের স্ত্রী কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে ছেলে ফারুকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার বিকেলে ফারুককে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ফারুককে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার আগে থেকেই কোদালটি পাশের ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন ফারুক এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন কখন তার বাবা ঘুমিয়ে পড়বেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।










