জীবিকার টানে প্রায় ছয় বছর আগে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাজমুল হাসান। সেখানে কেবল অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ধারদেনা শোধ করে কিছুটা স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেছিলেন। অবশেষে পরিবারের ইচ্ছায় দেশে ফিরে বিয়েও করেছিলেন দুই মাস আগে। নতুন জীবনের শুরু, প্রবাসে ফেরার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ কিন্তু আর ফেরা হলো না তার।
রবিবার বিকাল ৩টার দিকে কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বারের জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগমাবাদ এলাকায় লরিচাপায় প্রাণ হারান নববিবাহিত নাজমুল (২৫)। তিনি উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।

আরও
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিল্লা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন নাজমুল। বেগমাবাদ-চরবাকর মোড়ে একটি লরিকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরির নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।
নাজমুলের মামাতো ভাই মো. ফারুক জানান, ‘মাত্র চার মাস আগে কুয়েত থেকে দেশে এসেছিল নাজমুল। দুই মাস হলো বিয়ে করেছে। কয়েকদিন পরই আবার কুয়েত ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তা আর হলো না।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, ময়নামতি ক্যান্টনম্যান্ট বাজার থেকে একটি টি’ শার্ট কিনে বাড়ি ফেরার পথেই সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারাল। পরিবারের তিন ভাইবোনের মধ্যে নাজমুল ছিলেন সবার বড়। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামজুড়ে। মা মিনুয়ারা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। নব বধূর হাতের মেহেদী রং না মুছতেই বিধবা হলো। নির্বাক হয়ে গেছেন নববধূ।
এ বিষয়ে মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক লরি আটক করা হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বুক চাপড়ে বলেন, ছেলেকে বিয়ে করিয়ে খুব আনন্দে ছিলাম, এ আনন্দটা বেশিদিন রাখলনা আমার ছেলে।
মীরপুর হাইওয়ে পুলিশের এস আই আনিসুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত কভারভ্যান ও মোটর সাইকেলটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিকাল সোয়া ৫টা থেকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।










