উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চীনে নারী পাচারের এক আন্তর্জাতিক চক্রকে বাংলাদেশ র্যাব ভাঙতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, গত ৭–৮ বছরে এই চক্র অসংখ্য নারীর জীবনে অমানবিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছে। র্যাব আরও জানিয়েছে, দেশজুড়ে আরও ৪–৫টি চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
র্যাবের বর্ণনা অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার নারীদের টার্গেট করত। ঢাকায় নিয়ে এসে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ের নাটক সাজানো হতো। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে স্পাউস ভিসা পেয়ে নারীদের চীনে পাঠানো হতো। সেখানে চাকরি দেওয়ার বদলে জোর করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো, রাজি না হলে চলে অমানবিক নির্যাতন।
রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এসব নাটক আয়োজন করা হতো। কাবিননামার মতো ভুয়া দলিল বানানো হতো যাতে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ “বাধাহীন”ভাবে সম্পন্ন হয়। চীনে পৌঁছানোর পরই ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারতেন যে, তারা পাচারের জাল জালে পড়েছেন। এক ভুক্তভোগী জানান, নিজের খালাতো বোনকেও একই প্রলোভনে ফেলে এই পথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদিও তিনি নিজে দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন, তার বোন এখনও চীনে আটকা আছেন।
আরও
র্যাব মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতভর অভিযান চালিয়ে চার সদস্যকে গ্রেফতার করে এবং পাচারের বিভিন্ন নথি উদ্ধার করে। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার আব্বাস ও বাবু শুরুতে চীনা নাগরিকদের চালক হিসেবে কাজ করতেন। পরে তারা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র গড়ে তোলেন। চক্রটি রাষ্ট্রের কিছু সরকারি অফিস, অ্যাম্বাসি ও কাজি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তা নিয়েও কাজ করত।
র্যাব জনগণকে সতর্ক করেছে সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উচ্চ বেতনের প্রলোভনে পা দেওয়ার বিষয়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করিয়ে দিয়েছে, সচেতনতা ছাড়া এই ধরনের চক্রের ফাঁদে পড়া নারীরা মানবপাচারের শিকার হতে পারেন।









