ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবৈধ অবস্থান ক্রমেই বেড়েই চলেছে। দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীরা জানিয়েছেন, সেখানে কাজের যথেষ্ট সুযোগ থাকলেও অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ প্রবাসীরা তা কাজে লাগাতে পারছে না। চলতি বছরের সমঝোতা স্মারকের পরও এই পরিস্থিতিতে বিশেষ কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রবাসীরা আশা করছেন, প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন ইতালি সফরে এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হবে।
ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশীদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য ইতালি। প্রতি বছর শত শত বাংলাদেশি সেখানে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন, যার অধিকাংশই বিপদজনক ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসেন। বর্তমানে ইতালিতে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছে। তবে কাজের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ভিসা প্রস্তুতে ব্যর্থ হয়ে বিপাকে পড়ছেন।
প্রবাসীরা বলছেন, যারা ইতালিতে কাজ করতে যাচ্ছেন, তাদের উচিত ইতালিয়ান ভাষা শেখা ও নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা। বৈধ ও নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজের সুযোগ সহজেই নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু ইতালি সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত ভিসা জটিলতা তৈরি করেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে।
আরও
একজন প্রবাসী জানিয়েছেন, যদি কেউ ইতালিয়ান ভাষায় দক্ষ হয়ে ও প্রশিক্ষিত শ্রমিক হিসেবে আসে, তবে কাজের অভাব থাকবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগও খুলে যাবে। অন্য একজন প্রবাসী বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যদি ইতালির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন, তবে সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।
চলতি বছরে প্রথমবারের মতো অবৈধ অভিবাসন বন্ধ এবং কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক ঢাকায় স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে এর কার্যকর ফলাফল এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সিজনাল ও ননসিজনাল ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রদানের কথা থাকলেও এখনও অনেকের জন্য তা মুলতুবি রয়েছে। অনেক প্রবাসী বলছেন, তাদের নুলাস্তা (ওয়ার্ক পারমিট) থাকলেও বছর ঘুরেও ভিসা দেওয়া হচ্ছে না, ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার মধ্যে পড়ে যেতে হচ্ছে।












