কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার এলাকার কেএম আমির হোসেন ২০১৭ সালে জীবিকার তাগিদে জাপান পাড়ি জমান। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন তিনি। একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করার পাশাপাশি অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা বর্তমানে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পরিধিতে পৌঁছেছে।

ছাত্র ভিসায় জাপানে পাড়ি দেওয়ার পর আমির পড়াশোনার পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২০ সালে মায়ের ইলিশ খাওয়ার ইচ্ছা পূরণের জন্য চাঁদপুর থেকে তাজা ইলিশ এনে মাকে খাওয়ানোর পরই তার মনে ব্যবসার ধারণা আসে। এরপর তিনি ‘রেশমা অনলাইন শপিং’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেন।
আরও
ব্যবসা শুরু হওয়ার মাত্র ২৮ দিনে তিনি ১৪ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেন। যদিও সেই বছরই মা রেশমা বেগমের মৃত্যু ব্যবসায় এক সময়িক ব্যাঘাত আনে, তারপরও তিনি ধীরে ধীরে ব্যবসাকে সুসংগঠিত করেন। এখন ৪০–৫০ লাখ টাকার ইলিশসহ বিভিন্ন নদী ও সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করে চলেছেন। হোম ডেলিভারি, প্যাকেজিং এবং ক্রেতাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য তিনি ১০ জন কর্মী নিয়োজিত রেখেছেন।


২০২৩ সালে ব্যবসার আয় থেকে তিনি নিজ অর্থায়নে দারুল উলুম নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এতিমখানায় দুইজন শিক্ষক ও ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৮০ শতাংশই এতিমখানার জন্য ব্যয় করা হয়।
আমির হোসেন বলেন, তার লক্ষ্য সারা দেশে মানুষকে প্রকৃত ইলিশের স্বাদ ও গন্ধ উপভোগ করতে দেওয়া। এছাড়া তিনি আরও শিক্ষাগত ও মানবিক উদ্যোগ নিতে ইচ্ছুক। তিনি দেশের মানুষ এবং মায়ের আত্মার জন্য দোয়া কামনা করেছেন, যাতে তার স্বপ্ন ও মানবকল্যাণমূলক কাজ এগিয়ে যেতে পারে।









