আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেই সরকার গঠন হোক, ভারত তা স্বাগত জানাবে এবং সহযোগিতার প্রস্তুতি রাখছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি সোমবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশি কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিক্যাবের সঙ্গে এক আলোচনায় বলেন, “বাংলাদেশে যে সরকারই নির্বাচিত হোক, ভারত তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। ভারত এই নির্বাচনের সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক প্রকল্পকে সমর্থন জানাচ্ছে এবং ভোটের মাধ্যমে গঠিত যে সরকারই আসুক, তার সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন, ভারতের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বহন করে। সম্পর্কের মধ্যে প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য এড়িয়ে চলা উভয় দেশের জন্য জরুরি। বর্তমানে দুই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আরও
ভিসা প্রসঙ্গে বিক্রম মিশ্রি জানান, যদিও বর্তমানে ভিসা কার্যক্রম সীমিত, তবুও ঢাকা ভারতীয় ভিসার বৃহত্তম উৎস। দুই দেশের জনসাধারণের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ভারত সবসময় সচেষ্ট। আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা ভারত অগ্রাধিকার দেয় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চরমপন্থার উত্থান রোধে কাজ করে।
যদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি ও তিস্তা নদী প্রকল্পের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, বিক্রম মিশ্রি জানান, দুই দেশ পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এসব বিষয় সমাধানের জন্য যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি শুধুমাত্র এটি একটি আইনি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অন্যান্য মন্তব্য এড়িয়ে যান।









