নওগাঁয় মাদরাসা ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ও শিক্ষক মাওলানা মোনায়েম হোসাইনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দেওয়া দলীয় মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির খ. মো. আ. রাকিব।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মাওলানা মোনায়েম হোসাইনের বিরুদ্ধে মাদরাসা ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এনায়েতপুর দাখিল মাদরাসায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে একা পেয়ে তিনি শারীরিকভাবে হয়রানি করেন এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক চুম্বন করেন। ওই ছাত্রী বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান।
এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের পোস্টারে জুতার মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি দ্রুত বিচারের দাবিতে তারা বিক্ষোভও করেন। পরে ২২ সেপ্টেম্বর মাদরাসার আরেক শিক্ষক সালেক রহমানের উদ্যোগে মোনায়েম হোসাইনকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি করা হলে তিনি অভিযোগের কোনো সঠিক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। ওইদিন রাতেই তিনি মোবাইল ফোনে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আরও
অভিযোগ উঠার পর জেলা জামায়াত দ্রুত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তদন্তে মাদরাসার শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন জেলা আমির খ. মো. আ. রাকিব।
তিনি আরও জানান, মোনায়েম হোসাইনের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক নেই জামায়াতের। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার এবং সব ধরনের পদ ও মনোনয়ন থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।












