বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীন জানিয়েছেন, সরকার দেশের অর্থ পাচার করে বিদেশে পাঠানো ১০–১২টি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চিহ্নিত করেছে। তিনি বলেছেন, এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঢালাওভাবে ফ্রিজ করলে তা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থাহীনতা সৃষ্টি করতে পারে।

মঙ্গলবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘মাসিক সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ফরাসউদ্দীন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, দোষীরা বিচারের মুখোমুখি হোক, কিন্তু কোনো নির্দোষ ব্যক্তি—যেমন কারো স্ত্রী বা সন্তান—এর ওপর যেন অন্যায় চাপ না পড়ে।
আরও
তিনি দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা একই হাতে কেন্দ্রীভূত হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের অর্থনীতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সম্পদ এখনও অল্প সংখ্যক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে মাত্র ৪০ লাখ মানুষ আয়কর দিচ্ছেন; প্রতিবছর করদাতার সংখ্যা কমপক্ষে ২০ লাখ বাড়ানো উচিত।
ড. ফরাসউদ্দীন আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে সিএমএসএমই (ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প) খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদের ঋণ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বৃদ্ধি করলে সমাজে বৈষম্য কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বেকারত্ব হ্রাস পাবে।
তিনি বলছেন, ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা বাড়াতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত বীমা কার্যকর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে, দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।










