ফরিদপুরে নৃশংস এক ঘটনায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাটি দায়ের করেছিলেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালে আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। তবে ২০২০ সালে দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটে। এর পর থেকে দুই মেয়ে কখনো বাবার কাছে, আবার কখনো মায়ের কাছে থেকে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বড় মেয়ে বাবার কাছে থাকাকালীন সময়ে সে বাবার দ্বারা একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়। আত্মীয়স্বজনকে বিষয়টি জানালেও প্রথমে কেউ বিশ্বাস করেনি। ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত দুই বছর এ নির্যাতন চলে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ ঘটনা ঘটে এবং ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিকভাবে মাকে জানায়। পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা মেলে।
আরও
এরপর মেয়ের মা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৩ সালের আগস্টে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রাব্বানী ভূঁইয়া বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, “বাবার কাছে যদি সন্তানের নিরাপত্তা না থাকে, তবে সমাজের নিরাপত্তা কোথায়? এ রায় সমাজে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।











