চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পশ্চিম আলমপুর এলাকায় প্রায় ৮২ বছর আগে নির্মিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বিমানবন্দর ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, যুদ্ধবিমানের ওঠানামার শব্দ আর রানওয়েতে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল নেওয়া বিমানগুলোর ছবি তাঁদের পূর্বপুরুষদের মুখে শুনে বড় হয়েছেন। বর্তমানে বিমানবন্দরের রানওয়ে ‘পাক্কা রাস্তা’ নামে পরিচিত হলেও, কালের ব্যবধানে পুরো এলাকা আবাসিক ও কৃষিজমিতে পরিণত হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার ১৯৪৩ সালে ৩৭ একর জায়গায় এই বিমানবন্দর নির্মাণ করেছিল। তখন হাটহাজারী অঞ্চলের দুর্যোগপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গোলাবারুদ, রসদ এবং জ্বালানি তেল দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহৃত হত। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্স যৌথভাবে সরবরাহ বিমান পরিচালনা করত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৫ সালে বিমানঘাঁটি বন্ধ হয়ে যায়।
আরও
আজকের দিনে বিমানবন্দরটির প্রশাসনিক ভবন ও সিগন্যাল হাউস কেবলই টিকে আছে, বাকি স্থাপনাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। রানওয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত এবং জ্বালানি তেলের রিজার্ভারও ধ্বংসপ্রায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পাকিস্তান আমলেও কোনো সংরক্ষণ করা হয়নি, এবং স্বাধীনতার পরও স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় কোনো সরকার উদ্যোগ নেনি।


স্থানীয়রা বলছেন, বিমানবন্দরটি ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেই সংরক্ষণ করা উচিত। প্রশাসনিক ভবন, সিগন্যাল হাউসসহ বিভিন্ন চিহ্নকে রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং স্থাপনাগুলোর পাশে বিমানবন্দর নির্মাণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তথ্য খোদাই করে রাখা প্রয়োজন। এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ও স্থানীয় অবদান সম্পর্কে সচেতন করবে।
এছাড়া, বিমানবন্দর এলাকা এবং তার চারপাশের সবুজ পাহাড়, কৃষি গবেষণাগার, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ও দুগ্ধখামার পর্যটন ও শিক্ষামূলক কেন্দ্র হিসেবে বিকাশের সম্ভাবনা রাখে। সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মিলিয়ে স্থানটি স্থানীয় জনসাধারণের বিনোদন এবং সরকারের জন্য অর্থনৈতিক উপকারও বয়ে আনতে পারে।










