হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরের নিরাপত্তার দায়িত্ব আবারও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) হাতে ফিরেছে। অন্যদিকে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন শেষে বিমানবাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরে যাবেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে আনসার বিদ্রোহের পরপরই হঠাৎ করে শত শত আনসার সদস্য দায়িত্ব ছাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবাহিনীর সদস্যদের সেখানে মোতায়েন করা হয়। একই সময়ে এপিবিএনকে টার্মিনালের ভেতরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়। এরপর যাত্রী হয়রানি, ভিডিও ফাঁসসহ বিভিন্ন অভিযোগে এপিবিএন ও অ্যাভসেকের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এমনকি এপিবিএনের অফিসকক্ষ থেকে মালামাল সরানোর অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরিও হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী। এ সময় পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সচিব এম সাইফুল্লাহ পান্না, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো একই লক্ষ্যে কাজ করছে, তাই পেশাদারিত্ব ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি।
আরও
সভায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় একক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা; এপিবিএন ও অ্যাভসেককে বেবিচকের নির্দেশনায় দায়িত্ব পালন করা; দ্রুত এপিবিএনকে টার্মিনালের ভেতরে কাজে ফিরিয়ে আনা; আইজিপি ও বেবিচক চেয়ারম্যানের মধ্যে অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈঠক করা; বিমানবাহিনীর টাস্কফোর্সকে দায়িত্ব শেষে মাতৃ বাহিনীতে ফেরত পাঠানো; সব বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা সভা আয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বেবিচকের অপারেটর ও রেগুলেটর ভূমিকা আলাদা করার সুপারিশ।
এ সিদ্ধান্তের ফলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দায়িত্বে এপিবিএনের প্রত্যাবর্তন যাত্রীসেবা ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।












