চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সামরিক বিমান ও সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কেউ বলছেন, এটি কোনো ষড়যন্ত্র বা দেশ দখলের অংশ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর পেছনে বাস্তব কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ারফোর্সের যৌথ মহড়া “অপারেশন প্যাসিফিক এনজেল 253” বর্তমানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাত দিনব্যাপী এ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সি-130 জে সুপার হারকিউলিস পরিবহন বিমান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-130 জে বিমান ও একটি এমআই-17 হেলিকপ্টার। এতে বাংলাদেশের ১৫০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৯২ জন সেনা সদস্য অংশ নিচ্ছেন।
আরও


আইএসপিআর ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো উডয়ন প্রশিক্ষণ, সারভাইভাল এক্সারসাইজ, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, চিকিৎসা প্রস্তুতি, বিমান নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধি। অর্থাৎ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে প্রস্তুতি নেওয়াই এ অনুশীলনের উদ্দেশ্য।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি দাবি করা হয়েছে, তারা চট্টগ্রামের একটি হোটেলে নিয়ম ভঙ্গ করে অবস্থান করছেন। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, সেনারা পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য দিয়ে যথাযথভাবে রেজিস্ট্রেশন করেই অবস্থান করছেন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে এ ধরনের মহড়াকে অনেকেই অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি অংশ, যা অতীতেও হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










