জীবিকার তাগিদে প্রায় নয় বছর আগে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আরিফুর ইসলাম (৪২)। পরিবারের অভাব ঘোচাতে হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমালেও দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর তিনি ফিরলেন লাশ হয়ে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছায় এবং গ্রামের বাড়িতেই দাফন সম্পন্ন হয়।
মরদেহ পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রতিবেশীরাও নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন কাফনে মোড়ানো নিথর দেহের দিকে। বিশেষ করে আরিফুরের প্রতিবন্ধী মেয়ে জান্নাত ও ছোট ছেলে স্বাধীন বাবার লাশের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেয়েটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল বাবার দিকে, যেন এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না—বাবা আর কখনো ফিরে তাকাবেন না।
২০১৬ সালে মালয়েশিয়ার জোহরবারুতে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন আরিফুর। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন তিনি। গত ৩১ আগস্ট রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরে স্ত্রী সাজেদা ও মেয়ে জান্নাতের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কথার একপর্যায়ে ফোন কেটে দেন। কে জানত সেটিই হবে পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ আলাপ।
আরও
পরদিন সকালে খবর আসে, কাজ শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরিফুর ইসলাম। দীর্ঘ ১৬ দিন পর লাশ দেশে এসে পৌঁছায়। প্রবাসের মাটিতে নয় বছরের শ্রম শেষে নিথর দেহে ফেরায় শোকে ডুবে আছে পরিবার ও স্বজনরা।











