নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় মানব পাচারের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তিন তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। গত রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে কেন্দুয়া পৌরসভার কমলপুর গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন চীনা নাগরিক লি ওই হাও এবং তার সহযোগী বাংলাদেশি ফরিদুল ইসলাম (পিতা আব্দুল হানিফ মিয়া, গ্রাম সুখদেব পশ্চিমপাড়া, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গার্মেন্টস কর্মী আলফা আক্তার (১৮)-এর সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন লি ওই হাও। তিনি শ্বশুরবাড়িকে আশ্বাস দেন, ২০ সেপ্টেম্বর স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাবেন এবং এজন্য পরিবারকে এক লাখ টাকা দেবেন।
১৪ সেপ্টেম্বর আলফা তার স্বামীকে পরিবারের কাছে পরিচয় করাতে গ্রামে এলে সঙ্গে ছিলেন ফরিদুল ইসলাম ও আরও দুই তরুণী। তাদের মধ্যে জামালপুরের বৃষ্টি (১৭) জানান, কয়েকদিন আগে তারও বিয়ে হয়েছে এক চীনা নাগরিকের সঙ্গে। অপরজন নেত্রকোণার লিজা আক্তার (২০)। তবে আলফার পরিবার লি ওই হাও-এর কাছে পাসপোর্ট ও বৈধ কাগজ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। একইভাবে ফরিদুল ইসলামও সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।
আরও
পরে কেন্দুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের ভাষ্যমতে, আটককৃতদের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে। তিন তরুণীকে ভিকটিম হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মানব পাচারের অভিযোগে আটক চীনা নাগরিক ও তার সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।









