আকাশপথে সোনা চোরাচালান বেড়েই চলেছে। এতে বারবার জড়িয়ে পড়ছেন রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রুরা। তবে ধরা পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে না, বরং লঘু শাস্তি দিয়েই ফের কাজে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি বিমানের ফ্লাইট পার্সার বিভাগের কেবিন ক্রু রুদাবা সুলতানা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনাসহ ধরা পড়েন। এর আগেও কেবিন ক্রু মর্জিনা আক্তার এলিন ও সাদিয়া খানম একই অভিযোগে আটক হলেও সাময়িক বরখাস্তের পর ‘বেতন বৃদ্ধি বন্ধ’ বা ‘তিরস্কার’ ধরনের নামমাত্র শাস্তি দিয়ে আবার চাকরিতে ফেরানো হয়েছে।
আরও
বিমানের ভেতর থেকেই প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এসব অভিযুক্ত ক্রুরা দায়মুক্তি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ঘুষ এবং কেবিন ক্রু ইউনিয়নের চাপের কারণে অপরাধীরা পুনরায় দায়িত্বে ফিরছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হয় এবং অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।


এদিকে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সোনা জব্দের পর মামলা করার পরিবর্তে শুধু বিমানে অবহিত করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়ে হালকা শাস্তি দেয়। এতে অনেকে বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। যদিও বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সাফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং স্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে ‘ডিমোশন’সহ কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হচ্ছে।
অভিযোগ-প্রমাণের পরও অভিযুক্ত ক্রুদের দণ্ড এড়ানোর সুযোগ থাকায় সোনা চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। এতে একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে দেশের পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।












