বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভ্রমণে নানা বিড়ম্বনার খবর বাড়ছে। সম্প্রতি ট্যুরিস্ট ভিসায় ঢাকা থেকে কলম্বো গিয়েছিলেন সাইফুর রহমান। সেখানে পৌঁছে বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে এবং আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে ইমিগ্রেশনে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভিসার অপব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের বিশেষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। সাইফুর রহমানের অভিযোগ, অন্য দেশের নাগরিকদের এ ধরনের জেরার মুখে পড়তে হয় না।
শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার অনেক দেশেই বাংলাদেশি ভ্রমণকারীরা একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এমনকি জনপ্রিয় ট্রাভেল ব্লগাররাও এই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। ব্লগার নাদির নিবরাস সেশেলস ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, তাঁকে এবং তাঁর এক স্প্যানিশ বন্ধুকে ইমিগ্রেশনে এক ঘণ্টার বেশি আটকানো হয় এবং নানা নথি যাচাইয়ের নামে ঝামেলা করা হয়। ফলে অতিরিক্ত খরচ ও সময় নষ্টের মুখে পড়তে হয়।
এমন অভিজ্ঞতার উদাহরণ শুধু সেশেলসেই সীমাবদ্ধ নয়। মালয়েশিয়ায় ট্যুরিস্ট ভিসায় প্রবেশে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। কেবল ৩০ আগস্টেই ১০৪ জন বিদেশিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যার মধ্যে বহু বাংলাদেশিও ছিলেন। থাইল্যান্ড দূতাবাসও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ভিসা আবেদন বেড়ে যাওয়ায় সতর্ক করেছে। মিসর ও বাহরাইনে অন অ্যারাইভাল ভিসার ক্ষেত্রে শর্ত কঠোর করা হয়েছে।
আরও
কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিসা অপব্যবহার ও মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থান দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনেকেই ভ্রমণের নামে বিদেশ গিয়ে ফেরত আসেন না অথবা অন্য দেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ কারণে বিভিন্ন দেশ ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি করছে। ইতিমধ্যেই ভিয়েতনাম, লাওস, ইন্দোনেশিয়া ও উজবেকিস্তান বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন স্বীকার করেছেন, সমস্যার বড় অংশ আমাদের নিজেদের তৈরি। ভুয়া তথ্য, জাল কাগজপত্র ও নিয়ম না মানার কারণে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সম্মান ফিরে পেতে হলে আগে দেশীয়ভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।









