মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় সৌদি প্রবাসী সোহাগ হাওলাদারের স্ত্রী পাখি আক্তার (২৮) কুপিয়ে হত্যা হওয়ার ঘটনায় ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। মূল অভিযুক্তদের ধরা না পড়ায় নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মাঝেরকান্দি এলাকায়। দুষ্কৃতিরা ঘরে ঢুকে পাখি আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করে। নৃশংসতার সময় তার চার বছরের ছেলে আইজানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ হাওলাদারের সঙ্গে তার চাচা শাহাদাৎ হাওলাদারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের মা শারমিন বেগম কালকিনি থানায় শাহাদাৎ হাওলাদারসহ তিনজনকে আসামি করে এজাহার দিয়েছেন। কিন্তু মামলা রেকর্ড করার সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পরিবারের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। শারমিন বেগম বলেন, “মেয়ের মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়েছিলাম। যাদের নাম দিয়েছিলাম, তারা বাদ দিয়ে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এভাবে কি ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব?”
আরও
সোহাগ হাওলাদার, যিনি স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন, দাবি করেছেন, “প্রকৃত অপরাধীদের ধরা হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।” অন্যদিকে অভিযুক্ত শাহাদাৎ হাওলাদারের স্ত্রী পলি আক্তার দাবি করেন, “জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও আমরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত নই। আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের বিচার হোক।”
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, “এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ ও গোয়েন্দা ইউনিট রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। জহির নামে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবে না। শিগগিরই মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।” স্থানীয়রা বলছেন, পাখি একা থাকার কারণে ঘরে বিভিন্ন সময় ঢিলছোঁড়া হতো, কিন্তু সুরাহা হয়নি। তারা দাবি করছেন, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।











