কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা হাবিব উল্যাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও ঘটনার চার দিন পরও তিনি ঘরে ফিরতে পারেননি। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের বারাইপুর গ্রামে। অভিযুক্ত হাবিব উল্যাহ স্থানীয়ভাবে একজন পোল্ট্রি ব্যবসায়ী এবং নিজেকে ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য সচিব পরিচয়ে পরিচিত করেন।
ভুক্তভোগী ইয়াছমিন আক্তার জানান, শাশুড়ির মৃত্যুর পর শ্বশুর দ্বিতীয় বিয়ে করলে পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জেরে গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শ্বশুর ও দেবর তাঁর ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মারধর করে। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্বশুর ও দেবর সরে যায়।
ইয়াছমিন অভিযোগ করেন, এর কিছুক্ষণ পর তাঁর মা ও খালাতো ভাই তাকে দেখতে এলে বাড়ির পাশে অপেক্ষমাণ হাবিব উল্যাহ তাদের আটক করে ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় তার মায়ের ব্যাগ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন খুলে নেওয়া হয়। এছাড়া হাবিব উল্যাহ প্রায়ই রাতে জানালায় টোকা দিয়ে কু-প্রস্তাব দিত এবং মোবাইল নম্বর চাইত। স্বামীকে বিষয়টি জানানোয় সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন শ্বশুরপক্ষের সঙ্গে যোগ দিয়ে ১০-১২ জন সহযোগী নিয়ে তাকে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
আরও
প্রবাসী স্বামী হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে রেমিট্যান্স পাঠাই, অথচ দেশে পরিবার নিরাপদ নয়। আমার স্ত্রী ও সন্তানকে এক কাপড়ে ঘরছাড়া করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দিলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
অভিযুক্ত হাবিব উল্যাহ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছে। তবে ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আমিনুর রহমান জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বশুর-দেবরের নির্যাতনের বিষয়ে তাঁরা ব্যবস্থা নেন এবং আইনি পরামর্শ দেন। আর লালমাই থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











