বাংলাদেশি প্রবাসীরা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না পাওয়ায় পাসপোর্ট করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছরের বেশি সবার জন্য এনআইডি বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিদেশে থাকা নাগরিকদের অনেকে এনআইডি কার্ড হাতে না পাওয়ায় জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন না।
২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে বায়োমেট্রিক আইডেনটিফিকেশন চালু হয়। বর্তমানে সব ধরনের নতুন এনআইডি, সংশোধন ও পুনঃপ্রদানের কাজ অনলাইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পরিচালনা করছে। প্রবাসীরা দূতাবাস বা কনস্যুলেটে গিয়ে ফরম পূরণ ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করলেও মূল সমস্যা দেখা দিচ্ছে উপজেলা নির্বাচন অফিসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে। ফলে আবেদনের কাজ আটকে যাচ্ছে দীর্ঘদিন।
এমন এক ভুক্তভোগী নোয়াখালীর কূহিনূর মিয়া জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দুবাই কনস্যুলেটে আবেদন করেছিলেন। নিয়মমাফিক ফিংগারপ্রিন্ট ও সবকিছু শেষ করার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে এনআইডি পেলেও হাতে স্মার্ট কার্ড আসেনি। তাকে জানানো হয়েছে, কার্ড বাংলাদেশ থেকে এলে মেসেজ পাঠানো হবে। বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তিনি অপেক্ষায়। চট্টগ্রামের হামিদ আলী ও মাদারীপুরের ফয়সাল আহমেদসহ অনেক প্রবাসী উপজেলায় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় একই সমস্যায় পড়েছেন।
আরও
প্রবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, আবেদন কোথায় আটকে আছে তা পরিষ্কারভাবে জানতে পারেন না। আপডেট জানতে কনস্যুলেট বা দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হয়। তাদের দাবি, এনআইডির সব ধাপ যদি বিদেশেই সম্পন্ন করা যেত, তাহলে অনেক দ্রুত কার্ড হাতে পাওয়া সম্ভব হতো।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবিতে প্রবাসীদের জন্য এনআইডি কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে বিশ্বের দশটি দেশের ১৭টি স্টেশনে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। এছাড়া ফ্রান্স, স্পেন, বাহরাইন ও সিঙ্গাপুরসহ আরও কয়েকটি দেশে শিগগিরই এ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগ জানিয়েছে।









