কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পাচার চক্রের জন্য এক চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক ও স্বর্ণসহ মূল্যবান পণ্য পাচারের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছে। যদিও মাঝে মধ্যে ধরা পড়ে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অনেক চালান তাদের সাফল্যের সঙ্গে পার হয়ে যাচ্ছে, এ কারণেই তারা বারবার একই রুট ব্যবহার করতে উৎসাহী।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান জানান, বিমানবন্দর দিয়ে মাদক ও মূল্যবান পণ্য পাচার রোধ করতে সব সংস্থা সক্রিয়ভাবে নজরদারি চালাচ্ছে। বিমানবন্দরে বহির্গমন ও আগমনীতে বিশ্বের মান অনুসারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, এবং তথ্যভিত্তিক তল্লাশিও নিয়মিত করা হয়। তবুও একাংশ পাচারকারী এখনও বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
সম্প্রতি ২৬ আগস্ট গায়ানার নাগরিক এম এস কারেন পেতুলা স্টাফেল সাড়ে ৮ কেজি কোকেনসহ ধরা পড়েছেন। এই কোকেনের বাজারমূল্য প্রায় ১৩০ কোটি টাকা। প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, কোকেন ব্রাজিল থেকে ঢাকায় আসে এবং পরে অন্য দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এর আগে ২৪ জানুয়ারি মালাউইর নাগরিক নোমথেনডাজো তাওয়েরা সোকোকেও সাড়ে ৮ কেজি কোকেনসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল।
আরও
মাদকপাচারের পাশাপাশি স্বর্ণ পাচারের ঘটনাও বেড়ে চলেছে। গত ৭ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে ৮ কেজি ১২০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এরপর ১৭ আগস্ট বিমানবন্দরে আরও ৭৬ ভরি স্বর্ণসহ তিনজনকে আটক করা হয়। সর্বশেষ ২৮ আগস্ট যশোরে পৃথক অভিযানে বিজিবি ৩৬টি সোনার বারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিমানবন্দরই মূল রুট, যার মাধ্যমে এসব স্বর্ণ সীমান্ত এলাকায় পাচার করার চেষ্টা করা হয়।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি মাদক ও স্বর্ণ পাচার রোধে সতর্ক রয়েছে। বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে চোরাকারবারিরা এই রুটকে ব্যবহার করতে না পারে। সব সংস্থা মিলিতভাবে সজাগ থাকার কারণে একাধিক চালান ধরা পড়লেও নিরাপদে পার হওয়ার সম্ভাবনা সবসময় থেকে যায়।











