বাংলাদেশি কর্মীরা বিদেশে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত বেতন পান না বা অনেক সময় প্রতারণার শিকার হন, যার মূল কারণ অদক্ষতা— এমন মন্তব্য করেছেন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন। শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসন ও রাজশাহী টিটিসির আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ অর্জন করলে একজন কর্মী বিদেশে অদক্ষ কর্মীর তুলনায় কয়েকগুণ বেশি আয় করতে পারেন। সরকার দেশের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে, যা দেশের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠবে।
আরও
আশরাফ হোসেন জানান, বর্তমানে জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাপানি ভাষার এন-৪ স্তরের দক্ষতা অর্জন করলেই একজন কর্মী নামমাত্র খরচে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সেখানে যেতে পারবেন। তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকায় সরকারি উদ্যোগে জাপানে যাওয়া সম্ভব, যেখানে বেসরকারিভাবে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়।
তিনি আরও জানান, ঐতিহ্যবাহী শ্রমবাজার সৌদি আরব এখনও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এবছর দেশটিতে ৪০ হাজার জনবল পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। লক্ষ্য খুব শিগগিরই এই প্রবাহকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, আর তার চালিকাশক্তি হবেন দক্ষ কর্মীরা।
অভিবাসন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে সরকার নতুন একটি ইন্টিগ্রেটেড সফটওয়্যার চালু করেছে, যার মাধ্যমে ভর্তির নিবন্ধন ও তথ্য যাচাই অনলাইনে করা যাবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এটি চালু হবে বলে তিনি জানান। বিদেশগামী কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে অবশ্যই কাজ, বেতন ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করতে হবে এবং সব ধরনের লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।











