চলতি বছর ইতালিতে অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছেছেন ৩৮ হাজার ২৬৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। এর মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক অভিবাসী এসেছেন বাংলাদেশ থেকে। ২০২৪ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৬৪৪ জন, আর ২০২৩ সালে একই সময়ে প্রায় এক লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
এদিকে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় সার্ডিনিয়ার উপকূলে নৌকাডুবির এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আটজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেলে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং জীবিত উদ্ধার করা হয় আরেকজনকে। নিখোঁজদের সন্ধানে ইতালির কোস্টগার্ড, ফিন্যান্স গার্ডের টহল নৌকা ও হেলিকপ্টার এখনো তল্লাশি চালাচ্ছে।
সম্প্রতি কয়েক দিনে সার্ডিনিয়ার বিভিন্ন উপকূলে আরও ৩৪ জন অভিবাসী পৌঁছেছেন। তাদের সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। একইভাবে লাম্পেদুসা দ্বীপেও অভিবাসীদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। শুধু রোববারেই দ্বীপটিতে ৫৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। এসব অভিবাসী মিশর, ইরিত্রিয়া, সিরিয়া ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন।
আরও
এদিকে মানবিক সহায়তামূলক সংস্থা ইমার্জেন্সি-এর উদ্ধারকারী জাহাজ লাইফ সাপোর্ট ভূমধ্যসাগরে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ১৪৬ জনকে উদ্ধার করে ইতালির সাভোনা বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ছিলেন সুদান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও আরও বেশ কিছু আফ্রিকান দেশের নাগরিক। বিপজ্জনক অবস্থায় উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরে ইতালিতে আসা অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা—এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৬ জন বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছেছেন। এরপর রয়েছে ইরিত্রিয়ার পাঁচ হাজারের বেশি নাগরিক। এছাড়া মিশর, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, সুদান ও সোমালিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক ইতালিতে প্রবেশ করেছেন।











