যশোরের বেজপাড়া এলাকার শাওন সাহা দুবাই প্রবাসের স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পলাতক হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে শাওনের ছোট ভাই সবুজ সাহা ও স্ত্রী পূজা সাহার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় তিনটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রতারণার শিকার হয়েছেন শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
শহরের আরজু আহমেদ জানান, শাওনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। স্ত্রী ও পরিবারের গহনা বিক্রি, ছোট ভাইয়ের মোটরসাইকেল বিক্রি এবং সুদে ধার করে মোট চার লাখ টাকা দেন তিনি। প্রমাণস্বরূপ নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিও করেছিলেন। তবে টাকা নেওয়ার পর শাওন নানা অজুহাতে সময় টানিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে যান। হতাশ আরজু বলেন, “বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নে সবকিছু হারালাম, সংসারে অশান্তি নেমেছে। আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না।”
শহরের আরএন রোডে মোটর পার্টস দোকানের কর্মচারী আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি ধার নিয়ে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা শাওনকে দিয়েছিলেন। তবে শাওনের আচরণ হঠাৎ পাল্টে যায় এবং এখন শাওনের পরিবারের কাছে গেলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন তিনি।
আরও
শাওনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন তার চাচাতো ভাই রনি সাহাও। ১৩ আগস্ট দুবাই যাওয়ার জন্য তিনি ৩ লাখ টাকা আগাম দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিসা পাওয়ার আগেই ১৮ আগস্ট থেকে শাওনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনিও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাত খান জানিয়েছেন, শাওন সাহার নামে দুবাই প্রবাসের নামে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ এসেছে। তিনি বর্তমানে পলাতক থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত তাকে আটক করার চেষ্টা চলছে।
মোট হিসাব করলে শাওন সাহা প্রায় ২৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে।













