হাজার মাইল দূরের প্রবাস জীবনে থাকে ঘাম, কষ্ট আর পরিবারের জন্য ত্যাগ। মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা দিনরাত সংগ্রাম করে জীবিকার জন্য, কিন্তু কখনো পাশে কেউ দাঁড়ালে তিনি হয়ে ওঠেন ভরসার নাম। ঠিক এমনই একজন প্রবাসীদের চোখে ‘ভরসার মানুষ’ সাইফুল রাজীব। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি শুধু একজন সাংবাদিক নন, বরং প্রবাসীদের আস্থা ও গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

সাইফুল রাজীবের কাজের ধরনই তাকে প্রবাসীদের হৃদয়ের মানুষ বানিয়েছে। কখনো বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করছেন শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে, কখনো নির্যাতিত প্রবাসীদের নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ছুটে যাচ্ছেন। করোনার সময় তিনি ফেসবুক লাইভে নিয়মিত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতেন, যার কারণে হাজারো প্রবাসী তার লাইভের মাধ্যমে নিরাপদে থাকার উপায় পেত।
আরও


২০০৮ সালে সৌদি আরবে সাধারণ কর্মী ভিসায় পাড়ি দেওয়ার পর থেকেই সাইফুল শুধু নিজের জীবন নয়, প্রবাসী সমাজের কষ্ট-হাহাকারকে লক্ষ্য করেছেন। তিনি চার বছর বাংলা টিভির জেদ্দা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে ফেসবুক পেজ “প্রবাসের সাতকাহন – সাইফুল রাজীব” খোলেন, যা বর্তমানে প্রবাসীদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার হিসেবে বিবেচিত।


সৌদি আরবে অবস্থানকালে তার আস্থা প্রমাণিত হয়েছিল, যদিও অনেক ক্ষেত্রে আইনের সীমাবদ্ধতা তাকে বাধাগ্রস্ত করত। ২০২১ সালে কিছু অসাধু কনস্যুলেট কর্মকর্তার মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার হন এবং ৮৮ দিন জেলে কাটান। দেশে ফেরার পর স্বাধীনভাবে প্রবাসীদের জন্য কাজ শুরু করেন। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার বই “প্রবাসের সাতকাহন” প্রবাসীদের সুখ–দুঃখের বাস্তবচিত্র তুলে ধরে।


সাইফুল রাজীবের কাজ শুধুই তথ্য সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়। ১৭ জন নির্যাতিত নারী, ২৫ জন অসুস্থ প্রবাসী এবং ২৯ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো কাজ করেছেন। ফ্রি ভিসা, মানবপাচার ও শ্রমিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতিবাদও চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রবাসীরা তাকে কেবল সাংবাদিক নয়, পরিবারের একজন হিসেবে মনে করেন। তার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল প্রবাসীদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে।













