ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। ফাঁস হওয়া অডিও ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ওসি, এসআই ও কনস্টেবলের যোগসাজশে যাত্রীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে এবং মামলার আসামিদের পাসপোর্টে সিল মেরে পার করা হচ্ছে।
ফাঁস হওয়া অডিওতে ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছে। একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, যাত্রী অনুপস্থিত থাকলেও এসআই পাসপোর্টে সিল মারছেন। পরে জানা গেছে, ওই পাসপোর্টধারী ব্যক্তি একটি মামলার আসামি। যাত্রীদের অভিযোগ, মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার জন্য ৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়, না দিলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। সূত্রের খবর, প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ উঠছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ইমিগ্রেশনের মতো আন্তর্জাতিক পয়েন্টে এই ধরনের দুর্নীতি শুধু যাত্রীদের জন্য নয়, দেশের ভাবমূর্তির জন্যও হুমকি। শুদ্ধি অভিযান ছাড়া এই চক্র থামানো সম্ভব নয়। গত ২২ ও ২৩ জুলাই বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। কনস্টেবলরা লাইনে দাঁড় করানো ছাড়াই পাসপোর্ট সংগ্রহ করে সরাসরি পার করেছেন।
আরও
তদন্তে জানা গেছে, কনস্টেবলদের মধ্যে কিছু দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওসি আব্দুস সাত্তারও অফিসে নিয়মিত উপস্থিত না হওয়ায় পর্যবেক্ষকরা তার প্রভাবশালী অবস্থার অভিযোগ করেছেন। এছাড়া নিষিদ্ধ যাত্রীকে অন্যের আইডি ব্যবহার করে পার করানোর ঘটনা দেখা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার দাবি করেছেন, তিনি যোগদানের পর থেকে সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী চলছে এবং কোনো যাত্রী হয়রানির শিকার হচ্ছেন না। তবে স্থানীয়দের অভিমত, চেকপোস্টের এই অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দেশের সুনামের জন্য ক্ষতিকর।













