দেশের পুরোনো বিমানগুলোতে ঘন ঘন ত্রুটি দেখা দেওয়ায় যাত্রী ভোগান্তি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহরে ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ করবে এবং ধাপে ধাপে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেগুলো দেশে আসবে। ইতিমধ্যে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও এ ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিয়েছে।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বহরে আধুনিক, জ্বালানি-সাশ্রয়ী এবং যাত্রীবান্ধব উড়োজাহাজ যুক্ত হলে সেবার মান ও সময়ানুবর্তিতা বাড়বে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম দফার কয়েকটি বিমান ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা ১৯টির বেশির ভাগই পুরোনো। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শুধু জুলাই-আগস্ট মাসেই ব্যাংকক, দুবাই, দাম্মাম, শারজাহ, রোম ও ঢাকাগামী একাধিক উড়োজাহাজে টানা ত্রুটি ধরা পড়ে, যার ফলে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে। যদিও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, তবু যাত্রীসেবা ও রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
আরও
যাত্রীরা বলছেন, নিরাপত্তা ও সেবার মানের অভাবে বিমানে আস্থা কমছে। অনেকেই বিকল্প পরিবহন ব্যবহারের কথাও ভাবছেন। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুরোনো উড়োজাহাজে ছোটখাট সমস্যা স্বাভাবিক হলেও বারবার একই ধরনের ত্রুটি উদ্বেগজনক। তাদের মতে, ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কঠোর তদারকি প্রয়োজন।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ত্রুটিগুলোর কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন।












