জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও নতুন করে আশা জেগেছে। বিদেশে বসবাসকারী সাধারণ প্রবাসীরা যেমন ভোটাধিকার চাচ্ছেন, তেমনি দীর্ঘদিন প্রবাসে রাজনীতি করা নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা জাতীয় সংসদে অন্তত ১০ শতাংশ আসন প্রবাসীদের জন্য সংরক্ষণের দাবিও দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা জানান, গত ১৬ বছর দেশে ফেরেননি তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কায়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় এখন দেশে ফিরছেন। দোহার, নড়াইল, সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, চাঁদপুর ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন গিয়াস আহমেদ, আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, আকতার হোসেন বাদল, তোফায়েল চৌধুরী লিটন, আবু সাঈদ আহমদ, সৈয়দ জুবায়ের আলী, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, ইলিয়াস খান ও সেলিম আহমদ।
প্রার্থী হতে আগ্রহীদের মধ্যে অনেকে নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যেই স্থানীয় সমর্থক গোষ্ঠী গঠন করেছেন। প্রবাসীদের মতে, সংসদে তাদের অংশগ্রহণ হলে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হবে এবং তারা নিজেদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবেন। এ কারণেই তারা দলীয় হাইকমান্ডের কাছে ইতিবাচক সাড়া আশা করছেন।
আরও
শুধু বিএনপিই নয়, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তাদের মধ্যে আছেন— সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সহ-সভাপতি এম. ফজলুর রহমান, উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং আব্দুল কাদের মিয়া। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির আসেফ বারী টুটুল, আব্দুন নূর বড় ভূঁইয়া, আব্দুর রহমান ও আবু তালেব চৌধুরী চান্দুও প্রার্থী হতে আগ্রহী।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে প্রবাসী নেতাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নির্বিশেষে প্রবাসীরা বিশ্বাস করেন— দেশের রাজনীতি ও উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য।











