নোয়াখালী জেলা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূর রহমান এক প্রবাসীকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই হামলার শিকার ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে আমানউল্লাহপুর বাজারে এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নূর রহমান জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতার প্রবাসী শহীদ আলম দেশে ফেরার পথে ফেনীর লালপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে আটক হন। সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে ও মুক্তিপণ দাবি করে। শহীদ আলম মুঠোফোনে সহায়তা চাইলে তিনি স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ আরও দু’জনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে সন্ত্রাসীরা তাদেরও মারধর করে, রাতভর আটক রাখে এবং সাদা চেকে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে সেই চেকের মামলা দেখিয়ে গত ২৯ জুলাই তাকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো কি অপরাধ?” তার দাবি, সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে অপমানিত করেছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার দাবি করেন।
আরও
প্রবাসী শহীদ আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, কাতারে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সময় ফেনীর কয়েকজন কর্মচারীর কাছে স্বাক্ষরিত কিছু চেক ছিল। দেশে ফেরার পর তারা সেই চেক ব্যবহার করে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে আসে। মামলা করার পর তারা সমঝোতার আশ্বাস দিয়ে ফেনীতে ডেকে এনে তাকে জিম্মি করে, মারধর করে এবং মুক্তিপণ দাবি করে। খবর পেয়ে নূর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও আটক করে সাদা চেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়।
শহীদ আলম ও নূর রহমান উভয়েই সরকারের কাছে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে আমানউল্লাহপুর বাজারে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে ন্যায়বিচারের আহ্বান জানান।












