লক্ষ্মীপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক ওমান প্রবাসীর পরিবারের সাত সদস্যের। ঘুমিয়ে পড়া চালকের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস রাস্তার পাশে খালে পড়ে গেলে ঘটে এই দুর্ঘটনা। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে।

ওমান ফেরত প্রবাসী বাহার উদ্দিন জানান, “ঘুম চোখে গাড়ি চালাচ্ছিল চালক রাসেল। বারবার অনুরোধ করার পরও সে বিশ্রামের জন্য গাড়ি থামায়নি। এর আগে কুমিল্লায় একবার দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলাম, তখন রক্ষা পাই। কিন্তু এবার আর পারলাম না। বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে এসে রাসেল ঘুমিয়ে পড়ে এবং গাড়িটি খালে ফেলে দেয়।”
আরও
দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৬ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের জগদিশপুর এলাকায়। বাহার উদ্দিনকে ওমান থেকে আনতে তার পরিবার মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়। ফেরার পথে ঘটে এ দুর্ঘটনা।
নিহতরা হলেন—বাহারের মা মোরশিদা বেগম (৫৫), স্ত্রী কবিতা (২৪), মেয়ে মিম (২), ভাবি লাবনী (৩০), নানী ফয়জুন্নেসা (৮০), ভাতিজি রেশমী (৮) ও লামিয়া (৯)। এ ঘটনায় বাহার, তার বাবা, শ্বশুর, শ্যালক, ভাবি ও চালকসহ ছয়জন আহত হন।
আহত বাহার জানান, “গাড়ি খালে পড়ার পর ধীরে ধীরে ডুবতে থাকে। চালককে দরজা খুলতে বললেও তিনি সাড়া দেননি, বরং নিজে কাঁচ নামিয়ে পালিয়ে যান। কাউকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেননি।”
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া জানান, চালক রাসেল ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং খালে পড়ে যায়। কয়েকজন বের হতে পারলেও সাতজন আটকে পড়ে মারা যান। দুর্ঘটনার পর চালক পলাতক রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।












