গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ফ্যাসিবাদী সরকার গুলি চালিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার অপচেষ্টা করেছিল।” তিনি বলেন, জনগণের এই আন্দোলন ছিল একটি গণজাগরণ, যেখানে মানুষ ন্যায়বিচার ও বৈষম্যমুক্ত সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিল।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচিতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, অতীত সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি চালু ছিল, যার মধ্যে সরকারি চাকরির কোটা পদ্ধতিও ছিল অন্যতম হাতিয়ার। আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, তাদের কল্যাণে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮৩৬ শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি পরিবারকে ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আরও
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়, এটি জাতীয় প্রতিজ্ঞার দিন, একটি বর্ণাঢ্য গণজাগরণের ইতিহাস এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জাতির পুনর্জন্মের প্রতীক।” এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিস্ফোরিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তরুণরা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি, ঘুষ ও রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণে বঞ্চিত ছিল।” তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি করেছিল যারা স্বৈরাচারের পক্ষে কাজ করত এবং পুরস্কৃত হতো। জনগণের এই আন্দোলন ছিল সেই শোষণমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ।











