বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। শুধু কেন্দ্রীয় নয়, জেলার পর্যায় থেকেও পুরো ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে গেছে। পুলিশ-প্রশাসন কাজ করছে না, কারণ কাঠামোগত দুর্বলতা তাদের বাধাগ্রস্ত করছে। আইন ও প্রশাসনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এই বিপর্যয় কয়েক মাসে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে নাটোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেক হস্তান্তর এবং স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা প্রায়শই অভিযোগ করেন সরকার সহযোগিতা করে না, অথচ বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছে, যার যথাযথ ব্যবহার হয়নি। বেক্সিমকো একা ২৭ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে, অথচ সেই অর্থ কোথায় গেল তা কেউ জানে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা বাংলাদেশ থেকে শত শত কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। তারা ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি, ৭০০ কোটি এমনকি হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন, কিন্তু তার প্রতিফলন দেশে দেখা যাচ্ছে না।
আরও
শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, শ্রম আইন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারী ও লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করেছে সরকার। বর্তমানে শ্রম আইনের দিক থেকে বাংলাদেশ আইএলও মানদণ্ডের উপরে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু গার্মেন্টস ও জনশক্তি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন রপ্তানিমুখী খাত গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে শিপ বিল্ডিং খাত একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, যা নিয়ে সরকার কাজ করছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. আরেফিন সিদ্দিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবুল হায়াত এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।










