নিউজিল্যান্ডে পাসপোর্ট জালিয়াতি ও ভুয়া পরিচয়ে দীর্ঘদিন বসবাসের দায়ে এক বাংলাদেশি নাগরিককে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অকল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। দেশটির ইতিহাসে এ ধরনের অপরাধে এটিই সর্বোচ্চ সাজা। অভিযুক্ত ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলম নামের এক বাংলাদেশি, যিনি ভুয়া বিয়ে ও পরিচয় গোপন করে প্রায় ২৫ বছর ধরে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করছিলেন।
দেশটির সংবাদমাধ্যম আরএনজেডের খবরে বলা হয়, জাহাঙ্গীর ১৯৯০-এর দশকে প্রথমে জাপানে অবস্থান করেন। পরে ভুয়া পরিচয়ে নিউজিল্যান্ডে প্রবেশ করে অকল্যান্ডে ট্যাক্সি চালকের কাজ নেন। অবস্থান বৈধ করতে তিনি একটি ভুয়া বিয়েও করেন এবং পরবর্তীতে বিচ্ছেদের মাধ্যমে পারমিট নবায়ন করেন। তবে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে তিনি “জীবনের ভিন্নধর্মী ধারা”কে উল্লেখ করেন।
শুক্রবার আদালতের রায়ে তাকে মোট ২৯টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারক পিটার উইন্টার এই জালিয়াতিকে “অত্যন্ত পরিকল্পিত ও জটিল” আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের প্রতারণা শুধু সরকারের নয়, পুরো অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।”
আরও
তদন্তে জানা যায়, জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন জন আলম নামে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ব্যক্তির বড় ভাই পরিচয়ে নিউজিল্যান্ডে ছিলেন এবং সরকারের বিভিন্ন সেবা-সুবিধাও গ্রহণ করেছেন। তার প্রকৃত বয়স ও পরিচয় নিয়ে এখনো বিভ্রান্তি রয়েছে।
জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাজ পারভিন শিল্পীকেও অপরাধ গোপনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত তাকে ১২ মাস গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দেন। তবে তাদের ২১ বছর বয়সী সন্তানকে দোষমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, কারণ ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে আসা ওই সন্তান এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে।








