হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজন সঙ্গী প্রবেশের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। বিমানবন্দর ক্যানোপিতে শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। যাত্রীপ্রতি ৪-৫ জন স্বজন অবাধে প্রবেশ করছেন, অথচ সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীরও নিষ্ক্রিয়তা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

২৭ জুলাই জারিকৃত একটি নির্দেশনায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ দুইজন ব্যক্তি ডিপারচার ও অ্যারাইভাল ক্যানোপিতে প্রবেশ করতে পারবেন। এর উদ্দেশ্য ছিল যাত্রাপথে শৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট হ্রাস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নির্দেশনার বাস্তবায়নে নেই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।
আরও
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিদায়ী যাত্রীদের সঙ্গে আসছেন পরিবার ও প্রতিবেশী মিলিয়ে এক হাইস ভর্তি লোকজন। কেউ কেউ জানেন না এমন কোনো বিধিনিষেধ আছে, আবার অনেকে জানলেও মানছেন না। আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র—ক্যানোপির ভেতরে পর্যন্ত উঠে পড়ছে গাড়ি ভর্তি লোকজন। সবই ঘটছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে, কিন্তু তারা নিষ্ক্রিয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, ‘নিয়ম বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন। যাত্রী ও স্বজনরা কথা শুনতে চান না, বরং হুমকি দেন বা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।’ তাঁর মতে, যাত্রীদের সচেতনতা ছাড়া এই নির্দেশনা কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব।


বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বলেন, ‘আমরা নিয়ম বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভিড় ও নিরাপত্তাজনিত কারণে মানুষকে নিয়ম মানানোর জন্য বোঝানো হচ্ছে।’ তবে বাস্তব চিত্র বলছে, প্রয়োগ না থাকলে নিয়মও একসময় কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।












