দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক অর্জিত হয়েছে কুমিল্লায়। শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো জটিল অস্ত্রোপচারে এক রোগীর পায়ের আঙুল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে হাতের বিচ্ছিন্ন বৃদ্ধাঙ্গুলে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি শুধু একটি সফল অপারেশন নয়, বরং কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি।
গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাসিন্দা আশরাফুল আলম, যিনি সৌদি আরবে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, ২০২৪ সালে এক দুর্ঘটনায় বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল হারান। দেশে ফিরে বহু হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও তিনি বিদেশে ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার ছাড়া বিকল্প খুঁজে পাননি। কাজের অক্ষমতায় হতাশ হয়ে শেষে দেশে স্থায়ীভাবে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
আশার আলো দেখান কুমিল্লার চিকিৎসকেরা। শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জন ডা. কামরুল ইসলাম মামুন ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দল পায়ের একটি আঙুল কেটে তা সফলভাবে হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে প্রতিস্থাপন করেন। দীর্ঘ ও জটিল এ অস্ত্রোপচারে শুধু হাড় নয়, শিরা, উপশিরা ও স্নায়ুসমূহ সংযোজনের কাজও সম্পন্ন হয়।
আরও
এই সাফল্যের বিষয়ে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাউছার হামিদ বলেন, সাধারণত এমন অপারেশন বিদেশে করা হয়। দেশেই তা সম্ভব হওয়ায় এটি কুমিল্লার চিকিৎসা ব্যবস্থার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমদ জানান, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের জটিল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘটনা এই প্রথম। তিনি মনে করেন, দেশে এমন চিকিৎসা সেবা চালু হলে সাধারণ মানুষ কম খরচে জটিল চিকিৎসা পেতে পারবেন এবং বিদেশমুখী খরচ কমে আসবে।












