আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হযরত শাহজালাল ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইজারা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খান মোহাম্মদ ইকবাল নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বেবিচকের একাংশ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদ ইকবালকে অবৈধভাবে ইজারা নবায়নসহ ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আসছে। তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—শাহজালাল বিমানবন্দরের ‘চিকেন এক্সপ্রে’, ‘আইটি সেন্টার’, ‘আলবি রেন্ট-এ-কার’, ‘এয়ারপোর্ট হেল্প সার্ভিস’ এবং শাহ আমানত বিমানবন্দরের ‘এপিআই এভিয়েশন’।
আরও
সূত্র জানায়, ইকবাল সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে আত্মীয় এবং অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদকে উকিল শ্বশুর দাবি করে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের ইজারা নিয়েছিলেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টার নাম ব্যবহার করে বেবিচকের একাংশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে দীর্ঘদিন রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে গেছেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, তার কোনো প্রতিষ্ঠানের আয়কর কিংবা ভ্যাট নিবন্ধন নেই।
বেবিচকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের তিনটি বিমানবন্দরে এরই মধ্যে ১৬টি বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে, তবে মোহাম্মদ ইকবালের প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বহাল রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানের ইজারা নবায়নের জন্য আবারও তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিমানবন্দরে ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেননি। অন্যদিকে, বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মোহাম্মাদ মেহবুব খান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা অতীতে ইজারা নিয়েছেন, তাদের পুনরায় ইজারা দেওয়া হচ্ছে না।











