সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মো. নাসিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে রায় প্রদানের অভিযোগে মামলা রয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। এছাড়াও, ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। এতে দুর্নীতি, মিথ্যা রায় প্রদান এবং বেআইনি কার্যক্রমের অভিযোগ আনা হয়।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক রাজনীতিতে আলোচিত হয়ে ওঠেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেওয়ার মাধ্যমে। আপিল বিভাগের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের সেই রায়ে তিনি এককভাবে প্রভাব ফেলেন এবং ফল নির্ধারক ভোট প্রদান করেন। এ রায়ের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়, যা দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
আরও
২০১০ সালের ১ অক্টোবর তিনি দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১১ সালের মে মাসে অবসরে যান। এরপর ২০১৩ সালে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তী কয়েক দফায় তার মেয়াদ বাড়ানো হলেও ২০২3 সালের ১৩ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন।
খায়রুল হকের বিচার বিভাগীয় জীবন শুরু হয় ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে। ২০০৯ সালে তিনি আপিল বিভাগে পদোন্নতি পান এবং ২০১০ সালে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার এই নিয়োগ নিয়েও তৎকালীন দুইজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠে, যা আদালত ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।









