ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া হয়ে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে পাচারের শিকার হয়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার তিন যুবক। বর্তমানে লিবিয়ার একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের হাতে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন তারা এবং প্রতিনিয়ত অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা হলেন কৈখালী ইউনিয়নের রেজোয়ান ও আবু শহিদ গাজী এবং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের রমজান। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একসঙ্গে পাঁচটি দেশ ঘুরিয়ে তাদের লিবিয়ায় নিয়ে যায় স্থানীয় দালালচক্র। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকে একাধিকবার ভিডিও কল ও নির্যাতনের ছবি পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করছে পাচারকারীরা।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, প্রতিটি পরিবার দালালদের হাতে ১৮ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ ধারদেনা করে এই টাকা জোগাড় করেছে। তবু সন্তানের জীবন রক্ষার জন্য এখনো নতুন করে অর্থ সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারগুলো।
আরও
নির্যাতনের ভিডিও ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে, যেখানে দেখা যায় বন্দিদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের পরিবার দাবি করেছে, মানবপাচারের মূল হোতা মুকুল সানা নামের এক ব্যক্তি দুবাই থেকে পুরো চক্রটি পরিচালনা করছেন। তার স্থানীয় সহযোগী হিসেবে কাজ করছে আরও কয়েকজন। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে সাতক্ষীরা পিবিআই।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে ইউরোপগামী সমুদ্রপথে যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান ছিল অন্যতম শীর্ষে। অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, সচেতনতার অভাব, দালালচক্রের প্রলোভন ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই এমন ঘটনার মূল কারণ। তারা জোর দিয়েছেন নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং পাচারকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর।
ভুক্তভোগীদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে লিবিয়ায় বন্দি এসব যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনা হয়।










