বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে একাধিক আইনগত অসঙ্গতির বিষয় তুলে ধরেছেন হাইকোর্ট। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণ, যথাযথ নোটিশ প্রদান না করা এবং অভিযোগ গঠনের ক্ষেত্রে আইনের বিধান লঙ্ঘন হয়েছে।
দুই মাস চার দিনে ৪২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও মাত্র আট দিনের ব্যবধানে রায় ঘোষণাকে “অস্বাভাবিক দ্রুততা” বলে উল্লেখ করে আদালত মন্তব্য করেন, এমন দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া বিচারিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ৫২ পৃষ্ঠার রায়ে ডা. জুবাইদা রহমানকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয় এবং এই রায়ের ভিত্তিতে তারেক রহমানও নয় বছরের কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পান।
হাইকোর্টের মতে, মামলার অভিযোগ গঠনে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২১ ধারা অনুসরণ করা হয়নি এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ২৬(১) ধারা অনুযায়ী যথাযথ নোটিশ প্রদান না করায় জুবাইদা রহমানের সাজা আইনগত ভিত্তি হারায়। এছাড়া ৪২ জন সাক্ষীর মধ্যে কেবল দুই জন ছাড়া কেউই তারেক ও জুবাইদার বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের কথা বলেননি।
আরও
২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান ও তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। ২০২৩ সালের ২ আগস্ট বিচারিক আদালত তারেক রহমানকে দু’ধারায় নয় বছরের কারাদণ্ড ও তিন কোটি টাকা জরিমানা এবং জুবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করে।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষে গত ২৮ মে হাইকোর্ট খালাসের রায় দেন। আপিলে ডা. জুবাইদা রহমানের সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুর করা হয়। আপিলের বিলম্বও আদালত গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেন।
বিচারিক আদালতের রায়কে “ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেন জুবাইদা রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, “দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা এবং পক্ষপাতমূলক মনোভাব প্রমাণ করে—এটি ছিল একপাক্ষিক বিচার। হাইকোর্টের রায়ে আমাদের আইনি যুক্তিগুলো সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।”









