বাংলাদেশ বিমানে ব্যবহৃত বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজগুলোতে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যাচ্ছে, যা যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। কখনো চাকা খুলে পড়া, কখনো উইন্ডশিল্ড ফেটে যাওয়া, আবার কখনো রানওয়েতে আটকে পড়ার মতো ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া একটি বড় বিমান দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বোয়িং ৭৮৭ মডেল নিয়ে এয়ারলাইন্সগুলোর সতর্কতা বাড়লেও, বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ের কোনো আন্তর্জাতিক নির্দেশনা পায়নি। তবে দেশে বোয়িং উড়োজাহাজে যান্ত্রিক সমস্যা ও ফ্লাইট বিলম্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
ইউনাইটেড কলেজ অব এভিয়েশনের উপদেষ্টা এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, “যেকোনো ছোট কারিগরি ত্রুটি সময়মতো ঠিক না করলে তা বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে। প্রতিটি ফ্লাইটের পাইলট লগ শিটে যে সমস্যা বা পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়, তা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ ও সমাধান জরুরি।”
আরও
বাংলাদেশ বিমানের সাবেক পরিচালক নাফিজ ইমতিয়াজ উদ্দিন মনে করেন, উড়োজাহাজের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রকৌশল বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বলেন, “গাফিলতির বিরুদ্ধে কখনোই কোনো শাস্তির নজির নেই, যা প্রতিষ্ঠানটির দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানের বহরে রয়েছে ২১টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ১৬টিই বোয়িংয়ের তৈরি এবং ৭৮৭ সিরিজের সংখ্যা ৬টি। এসব উড়োজাহাজে বারবার দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটি বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলছে।










