মালয়েশিয়া ফেরত চার বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার’ অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান তাদের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, তারা অন্যদের অপকর্মে ‘অকারণে জড়িয়ে’ পড়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নজরুল ইসলাম সোহাগ, মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, জাহেদ আহমেদ এবং মাহফুজ। প্রথম তিনজনকে মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয় গত ৩ জুলাই, আর মাহফুজকে সোমবার কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এন্টি টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক কে. এম. তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তরা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা রুজু হয়েছে। তিনি প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আরও
আসামিরা শুনানিতে দাবি করেন, তারা নির্দোষ। জাহেদ আহমেদ জানান, মালয়েশিয়ায় তার কর্মস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং জঙ্গি সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের কারও কাছ থেকে কোনো অবৈধ কিছু উদ্ধার না হওয়া সত্ত্বেও চারজনকে ফেরত পাঠানো হয়। রেদোয়ানুল বলেন, “আমি আট বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছি, কখনো কোনো মামলায় পড়িনি। অন্যদের কারণে ফেঁসে গেছি।”
অন্যদিকে প্রসিকিউশন পক্ষ রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানায়, তদন্তের স্বার্থে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা জরুরি। তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই নিরপেক্ষ ও গভীর অনুসন্ধান আবশ্যক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ ও তহবিল গঠন করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ই-ওয়ালেট ও আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল।
আদালত বলেন, “তদন্তে প্রমাণের ভিত্তিতেই সত্য বেরিয়ে আসবে। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, দুই দেশের সম্পর্ক, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও। তাই সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।”












