বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে গুজব, অপপ্রচার ও মতাদর্শের রঙবদলের উৎসব। এই বদলের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এক সময় যিনি ভারতীয় কিছু প্রভাবশালী গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণার মুখে ছিলেন, আজ তার চারপাশেই তৈরি হচ্ছে নতুন বর্ণিল বর্ণনা। সেইসব মিডিয়া, যারা আগে শেখ হাসিনাকে প্রশংসার বন্যায় ভাসাতো, এখন তারা ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসার খবর ফলাও করে প্রচার করছে। চ্যানেলগুলোর শিরোনাম এখন—”ইউনূস আনছেন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ”, “হাসিনা যুগের অবসান”।
ভারতের একাধিক শীর্ষ চ্যানেল যেমন ETV, জি ২৪ ঘণ্টা, রিপাবলিক বাংলা প্রতিদিনই ইউনূসের কূটনৈতিক সফলতা তুলে ধরছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চীনের শতাধিক কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যার সম্ভাব্য পরিমাণ ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এসব চ্যানেল অতীতে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও এখন তারা তার সরকারকে ‘সন্ত্রাসী মনোভাবসম্পন্ন’ বলে চিহ্নিত করছে, এমনকি আওয়ামী লীগের এক নেতার ইউনূসকে হত্যার হুমকির ভিডিওতেও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
আরও
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় মিডিয়ার এই হঠাৎ সুরবদল কেবল আদর্শিক জাগরণ নয়, বরং টিআরপি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কৌশলগত হিসাব। শেখ হাসিনা এখন নিষিদ্ধ দলের নেতা, আন্তর্জাতিক আদালতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও শতাধিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় তার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ওই মিডিয়াগুলোর জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা এখন সম্ভবত আগেভাগেই ভবিষ্যতের ক্ষমতার কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে।
তবে এই প্রশংসা নিছক ইতিবাচক মূল্যায়ন, না কি গভীরতর কোনো রাজনৈতিক কৌশলের অঙ্গ, তা নিয়ে চলছে বিতর্ক। কেউ বলছেন এটা সত্য প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত, আবার কেউ মনে করছেন—“ঝোপ বুঝে কোপ” মারার পুরনো কৌশলের নতুন সংস্করণ মাত্র। তবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ভারতীয় গণমাধ্যমের এ নাটকীয় সুরবদল চোখে পড়ার মতো এবং এটি ভবিষ্যৎ অঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।








