২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর শিক্ষাভবনে শিক্ষা ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তার অংশগ্রহণে একটি রাজনৈতিক মিছিলের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই দিন ‘শেখ হাসিনা লড়বে’, ‘খুনি খালেদা জবাব দে’—এমন স্লোগানে মুখর ছিল মিছিলটি, যা সাধারণত রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মুখে শোনা যায়। সরকারি চাকরিজীবীদের এ ধরনের আচরণকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে ইতোমধ্যে ২১ জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং। আরও প্রায় ২০–২২ জন কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় দফায় তলব করা হতে পারে।
জানাগেছে, ঘটনাটির ১০ মাস পর সংশ্লিষ্ট উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক কাজী মো. আবু কাইয়ুম শিশির ব্যক্তিগত শুনানি ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগকারীদের শনাক্ত করছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কেউ কেউ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও দপ্তরে এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন এবং অনেকেই অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীরা বলছেন, এদের কেউ কেউ সরকারি প্রকল্পের বাজেট ব্যবহার করে মিছিল সংগঠনে ভূমিকা রেখেছেন।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায় থেকে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে ওই মিছিল আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রও মজুত রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নেহাল আহমেদ এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক এ কিউ এম শফিউল আজমের নাম এই আয়োজনের পেছনে সংশ্লিষ্টদের তালিকায় উঠে এসেছে। যদিও শফিউল আজম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরও
এ বিষয়ে ‘অনিক’ (অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক কাইয়ুম শিশির বলেন, “এটি সরকারি চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করার সুপারিশ করা হবে।” তিনি আরও জানান, সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদ এবং অনিক নীতিমালার প্রাসঙ্গিক ধারার আওতায় তিনি এই তদন্ত করছেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মুকিব মিয়া, সহকারী পরিচালক আবুল হোসেন কায়েস, ইউসুফ রহমান, গবেষণা কর্মকর্তা রিয়াদ আরাফাত, সুমন বিশ্বাস, প্রভাষক মিজানুর রহমানসহ অন্তত ৪০ জন কর্মকর্তা। অনেকেই স্লোগান দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পরিস্থিতির শিকার বলেও দাবি করেছেন। ডিআইএ-র অন্তত ১৯ জন কর্মকর্তা এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলেও জানা গেছে, যাদের কেউ কেউ অতীতে ছাত্রসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। অনেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলেও পরবর্তীতে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শিক্ষা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হলে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।













