দেশে শখের বশে বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ পোষার প্রবণতা বাড়ছে। এই সুযোগে একটি অবৈধ চক্র ফেসবুকভিত্তিক বাজারের মাধ্যমে গোপনে এসব প্রাণী দেশে আনছে ও বিক্রি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো নীতিমালা ও তদারকি ছাড়া আগত এই প্রাণীগুলো দেশীয় বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেসবুক বিদেশি প্রাণী কেনাবেচার প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন পেজে বিছা, টিকটিকি ও অজগরের মতো প্রাণী বিক্রি করা হচ্ছে এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী হোম ডেলিভারিও দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, এসব প্রাণীর পরিচর্যা সংক্রান্ত নির্দেশিকাও সরবরাহ করা হচ্ছে। অবৈধভাবে দেশে আনা হওয়ায় এসব প্রাণীর বেচাকেনা গোপনে পরিচালিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান বলেন, এই বিদেশি প্রজাতিগুলো আমাদের বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বন্দী অবস্থায় পালন করা হলেও অসাবধানতাবশত এরা প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা দেশীয় প্রজাতির জন্য ক্ষতিকর হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সঠিক নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও
অধ্যাপক জামান আরও উল্লেখ করেন, এসব প্রাণীর মাধ্যমে রোগজীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে, কারণ এদের কোনো প্রকার সঙ্গনিরোধ করা হয় না। ফলে, এদের রোগ এখানকার প্রাণী ও মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে এবং খাদ্যশৃঙ্খলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বিদেশি প্রজাতিগুলোর অভিযোজন ক্ষমতা বেশি থাকায় তারা দ্রুত স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, যা স্থানীয় প্রজাতির জন্য উদ্বেগের কারণ। বন অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা কোনো সরীসৃপ আমদানির অনুমতি দেয় না, তাই এসব প্রাণী অবৈধ পথেই দেশে প্রবেশ করছে। বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বিমানবন্দরে অভিযান চালালেও সমুদ্রবন্দরগুলোতে নজরদারির অভাব রয়েছে। অবৈধ বন্য প্রাণীর বাণিজ্য রোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে সাইটিসের নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে।









