উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অভ্যন্তরীণ রুটে লিটার প্রতি ১১১ টাকা থেকে কমিয়ে ৯৩.৫৭ টাকা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ৭৫ সেন্টস থেকে কমিয়ে ৬০ সেন্টস নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দর মঙ্গলবার ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে। অন্যান্য কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে। আমদানি মূল্যের অংশটুকু প্রতি মাসে সমন্বয় করার ঘোষণা দিয়েছে বিইআরসি। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে দাম বাড়বে, আর কমলে কমবে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
আরও
এতদিন বিপিসি এই পণ্যের দাম নির্ধারণ করত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা বাতিল করে দেয়। এরপর গত ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির ওপর ন্যস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনের পর গত ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক রুটের জন্য লিটারে ১ সেন্টস কমানো এবং অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য ১ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল।
বিপিসির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেট ফুয়েল বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ মে. টন, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৩ মে. টনে।
২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধাবিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি গঠিত হয়। আইনে সব ধরনের জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেওয়া হলেও প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধুমাত্র গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করত বিইআরসি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় করার বিধান যুক্ত করে। তারপর থেকে কার্যত অকার্যকর ছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাহী আদেশের ধারা বাতিল করলে বিইআরসি আবার সক্রিয় হতে শুরু করেছে। যদিও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম এখনও নির্বাহী আদেশে নির্ধারণ করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা এখনও তৈরি হয়নি, যা ২০১২ সাল থেকে ঝুলে আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে এটি নিয়ে কাজ শুরু করলেও এখন তা আবার বন্ধ আছে।











