নারী সংস্কার কমিশনের সাম্প্রতিক প্রস্তাবনাগুলোকে কেন্দ্র করে এবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেন।
প্রস্তাবনাকে ‘পরিবার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ বললেন
শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, এই প্রস্তাবনাগুলো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর বিরুদ্ধে গভীর এক ষড়যন্ত্র। তার ভাষায়, এই কমিশনের সুপারিশ একটি “আরোপিত নীলনকশা”, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে এবং পরিবার ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রণীত।
আরও
পশ্চিমা প্রভাবের সমালোচনা
৩১৮ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, এতে পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতি অন্ধ আনুগত্য এবং দাসসুলভ মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। শায়খ আহমাদুল্লাহর দাবি, কমিশনের সদস্যরা বাংলাদেশের নারীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছেন না; বরং তারা পশ্চিমা ধ্যান-ধারণার অনুসারী।
‘পশ্চিমা সংস্কৃতি আমদানিতে আত্মঘাতী বিপদ’
তিনি আরও লিখেন, দাম্পত্য সুখ ও পারিবারিক জীবনযাত্রায় বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা পশ্চিমা দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে। তাই সংস্কারের নামে পশ্চিমা রীতিনীতিকে অনুকরণ করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ কর্মসূচি
এর আগে নারী সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। শুক্রবার পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা কমিশন বিলুপ্তির আহ্বান জানায় এবং প্রস্তাবনাগুলোর কঠোর প্রতিবাদ জানায়।
প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিক্রিয়া বাড়ছে
নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে দিন দিন বিতর্ক বাড়ছে। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতো বিভিন্ন ইসলামি চিন্তাবিদ ও সংগঠন এ বিষয়ে সরব হয়েছেন, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—এ প্রস্তাবনার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের সমাজে ব্যাপক আলোচনার অবকাশ রয়েছে।











