ঢাকার মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া থেকে সৌদি প্রবাসী তাইজুল ইসলাম ও কোহিনূর দম্পতির দেড় বছর বয়সী মেয়ে তানিশা আক্তার গত মঙ্গলবার রাতে নিখোঁজ হয়েছে। তিন ছেলের পর একমাত্র কন্যা হওয়ায় তানিশা ছিল পরিবারের আদরের ধন। তার বাবা তাইজুল এখনো পর্যন্ত মেয়েকে দেখেননি বা স্পর্শ করেননি। চার সন্তানকে নিয়ে মিরপুরের ভাড়া বাসায় থাকা কোহিনূর মেয়েকে হারিয়ে দিশেহারা। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মেয়ের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। সন্তানকে ফিরে পেতে আকুল মিনতি জানিয়েছেন অসহায় মা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা শিশুটিকে খুঁজে বের করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
তানিশার মা কোহিনূর বেগম গতকাল রবিবার গণমাধ্যমকে বলেন, সন্তান হারানোর বেদনা কেবল ভুক্তভোগী বাবা-মা-ই বোঝেন। তিনি জানান, অলি-গলিতে রাত-দিন খুঁজেও মেয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি তার নিষ্পাপ শিশুটিকে খুঁজে দেওয়ার জন্য সকলের কাছে কাতর অনুরোধ জানান। কোহিনূর বলেন, তিন ছেলের পর অনেক অপেক্ষার পর তাদের কোলে আসে তানিশা। কে বা কারা তার সন্তানকে নিয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তার মেয়ে কোথায় আছে, কেমন আছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি জানান, ঘটনার রাতে মেয়েকে ঘরের কোল থেকে নামিয়ে তিনি রান্নাঘরে ভাত দেখতে যান। কিছুক্ষণ পর তানিশা তার কাছে এলে তিনি আবার তাকে ঘরে পাঠিয়ে দেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দেখেন তাদের মেয়েটি আর ঘরে নেই। কোথায় গেল বা কী ঘটলো, তা তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে লোকজন চলাচল করলেও ঘরের দিকে তেমন কাউকে দেখা যায়নি বলে তিনি জানান। কীভাবে এই ঘটনা ঘটলো, তা তিনি একেবারেই জানেন না এবং কখনো ভাবতেও পারেননি যে তার কোলের সন্তান এভাবে হারিয়ে যাবে।
সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার দিকে তানিশা তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বাসার সামনের রাস্তায় খেলছিল। প্রায় ৯-১০ মিনিট পর সে তার ভাইয়ের সঙ্গে বাসায় ফিরে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
আরও
তানিশার ফুপাতো ভাই মো. খোরশেদ আলম জানান, তারা ঘটনার পর থেকেই তানিশাকে খুঁজছেন এবং র্যাব ও পুলিশ তাদের সহযোগিতা করছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। আশেপাশের অনেক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে, কিন্তু কোথাও কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখা যায়নি। তিনি আরও জানান, এই পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো প্রকার ঝগড়া বা শত্রুতা নেই। তানিশার বাবা-মা গত ১৪-১৫ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন এবং চার ভাইবোনের মধ্যে তানিশাই একমাত্র মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। খোরশেদ আলম ধারণা করছেন, ঘটনাটি গত ২২শে এপ্রিল রাত ৮টা ৪০ থেকে ৮টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে ঘটেছে। তানিশাকে ঘরে রেখে তার মা যখন রান্নাঘরে যান, তখন তার ছোট ভাই মোবাইল দেখছিল। তানিশা মায়ের কাছে গেলে তিনি তাকে আবার ঘরে তার ভাইয়ের কাছে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে কোলে নেওয়ার জন্য ঘরে গিয়ে তিনি দেখেন তানিশা নেই। এরপর তার ছেলেকে রাস্তায় দেখতে পাঠালে সেখানেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাসাটির সামনে ও পেছনে সিসি ক্যামেরা থাকলেও সামনের দিকের ক্যামেরাটি সম্ভবত কাজ করছিল না। তাদের ধারণা, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সম্ভবত দীর্ঘদিন ধরে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করছিল।
মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তানিশা নিখোঁজ হওয়ার পরদিন থেকেই তারা তাকে খুঁজে বের করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। আশেপাশের বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তারা সেগুলো খতিয়ে দেখছেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে।








