সর্বশেষ

প্রবাসীর রেমিট্যান্সে গড়া মাদারীপুর, তবুও দরিদ্রের তালিকায় শীর্ষে! হতবাক জেলাবাসী

প্রবাসীর রেমিট্যান্সে গড়া মাদারীপুর, তবুও দরিদ্রের তালিকায় শীর্ষে! হতবাক জেলাবাসীCity ads Investment (1)

প্রবাসী অধ্যুষিত মাদারীপুর জেলাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। সম্প্রতি ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২’-এর জরিপে জেলাটিকে দেশের দরিদ্রতম জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ কয়েক বছর আগেও এই মাদারীপুরই ছিল প্রবাসী আয়ে দেশের তৃতীয় ধনী জেলা। এমন পরস্পরবিরোধী তথ্যে হতবাক জেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন পর্যন্ত।

জেলার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই মনগড়া এই জরিপ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, গত কয়েক দশকে মাদারীপুরের ৫টি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে জেলার অর্থনীতি চাঙ্গা। গড়ে উঠেছে আধুনিক বহুতল ভবন, কেনা হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ি। স্বচ্ছল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত জেলার অধিকাংশ পরিবার। ব্যবসা-বাণিজ্যেও জেলার সক্ষম মানুষেরা এগিয়ে গিয়েছেন বহুদূর।

পরিসংখ্যান বলছে, মাদারীপুর জেলার দারিদ্র্যের হার ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে ডাসার উপজেলাতেই এই হার ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ। অথচ বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে গড়ে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা এবং কোনো কোনো মাসে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি রেমিট্যান্স বৈধ পথে আসে এই জেলায়। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কাতার, কানাডা, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা জেলার কয়েক লক্ষ প্রবাসীর পাঠানো এই অর্থ জেলার অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।

ইতালি প্রবাসী মাদারীপুরের খোয়াজপুরের বাসিন্দা মাহমুদ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আছি। জেলার কয়েক লাখ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসংস্থান করছে। এই জেলাকে দরিদ্র ঘোষণা করাটা মেনে নেওয়া যায় না। এটা প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।”

প্রবাসীর রেমিট্যান্সে গড়া মাদারীপুর, তবুও দরিদ্রের তালিকায় শীর্ষে! হতবাক জেলাবাসী

মাদারীপুর পৌরসভার বাসিন্দা আরিফুর রহমান মোল্লা এই জরিপকে ‘মনগড়া’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই ভিত্তিহীন রিপোর্ট মাদারীপুরবাসী কিছুতেই মানবে না। যারা এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন, তারা সঠিক তথ্য সংগ্রহ না করেই প্রকাশ করেছেন। আমরা জেলাবাসী এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং রিপোর্ট পরিবর্তনের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান জানান, তিনটি সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা ১১৯টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে এই ফলাফল পেয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসনও এই জরিপের ফলে হতবাক। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (মিডিয়া সেল) শাহ্ মোহাম্মদ সজীব জানান, জেলা প্রশাসন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য যথাযথ ফোরামে উপস্থাপনের চেষ্টা করবে।

মাদারীপুর জেলাকে দরিদ্র ঘোষণার এই জরিপ জেলার আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলার সচেতন মহল। দ্রুত এই জরিপ পুনর্বিবেচনা করে নতুন তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Probashir city Popup
Probashir city Squre Popup 19 03