৫ আগস্ট, ২০১৩: বাংলাদেশের সংসদ ভবনে ঘটেছিল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ওইদিন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা সংসদ ভবনের গোপন বাংকারে আত্মগোপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের উত্তেজনায় যখন সংসদ ভবন উত্তাল, তখন নেতারা আতঙ্কিত হয়ে আশ্রয় নেন নিরাপত্তার জন্য।
অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যেমন সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও নাজমা আকতারও তার সঙ্গে ছিলেন। এই সময় সংসদ ভবনে লাখো ছাত্র-জনতার উপস্থিতিতে উত্তেজনা ছিল চরমে।
ওইদিন সংসদ ভবনে কয়েক কোটি টাকার সোনাদানা ও নগদ টাকা ছিল, যার মধ্যে থেকে ৯০ লাখ টাকা পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার দিন, দুপুর ২টা ৩১ মিনিটে এসএসএফ সদস্যরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন সাতটি গাড়ি নিয়ে। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারসহ অন্যান্য নেতাদের সংসদের গোপন কক্ষে নিয়ে যান। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার পর তাদের ৬ তলা ভবনের এক গোপন কক্ষে সরিয়ে নেয়া হয়।
আরও
বেলা ৩টা ২৩ মিনিটে ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনের মূল ভবনে প্রবেশ করে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রাত বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, নিরাপত্তা বাহিনী ধীরে ধীরে সংসদ ভবন ত্যাগ করে।
সারারাত সংসদের গোপন কক্ষে কাটানোর পর, রাত আনুমানিক আড়াইটায় সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করেন। একদল সেনা সদস্য শিরীন শারমিন চৌধুরীকে নিরাপত্তা দিতে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যান, আর অন্যরা নিরাপদে অবস্থান নেন।
এটি ছিল ৫ আগস্টের এক অজানা, কিন্তু ঐতিহাসিক ঘটনা, যা বাংলাদেশের রাজনীতির অন্দরে এক নতুন অধ্যায়ের জন্ম দেয়।













