বিশ্বব্যাপী বসবাসরত দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অনলাইন ভোটিং পদ্ধতির একটি কারিগরি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে গতকাল আয়োজিত এক সেমিনারে এই পদ্ধতির সম্ভাবনা তুলে ধরেন বিশিষ্টজনরা।
‘আগামী নির্বাচনে প্রবাসী নাগরিকদের অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে গ্লোবাল বাংলাদেশিজ অ্যালায়েন্স ফর হিউম্যান রাইটস (জিবিএএইচআর)। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক শামসুল আলম লিটন।
এতে বক্তৃতা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর এবং অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। তাঁরা বলেন, দেড় কোটি প্রবাসী নাগরিকের অংশগ্রহণ ছাড়া একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
আরও
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, “প্রবাসীদের অন্যতম প্রধান চাওয়া হলো ভোটাধিকার। আমরা অতীতে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এই কাজ করতে পারিনি। তবে এখন পরিবেশ অনুকূলে, তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।”
ডেটা প্রকৌশলী রূপম রাজ্জাক অনলাইন ভোটিং পদ্ধতির বিভিন্ন ধাপ ব্যাখ্যা করেন। তিনি অনলাইন এনরোলমেন্ট, কিয়স্ক-ভিত্তিক ভেরিফিকেশন, এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।
ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ও সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আরিফ হোসেন ‘সিকিউর অনলাইন ভোটিং মেথড (এসওভিএম)’ নামে একটি নিরাপদ ভোটিং পদ্ধতির ধারণা উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের পদ্ধতিতে মাল্টিফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। এটি শুধু নিরাপদ নয়, বরং প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি আধুনিক সমাধান।”
সেমিনারে মাল্টিলিঙ্গুয়াল প্রসেসিং, ব্লকচেইন-সমর্থিত ভোট লেজার, ক্লাউড সিকিউরিটি এবং মাল্টি-রিজিয়ন ডেপ্লয়মেন্ট নিয়ে একটি স্লাইড উপস্থাপন করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, রোল-বেসড এক্সেস কন্ট্রোল এবং ডেটা এনক্রিপশন প্রযুক্তি অনলাইন ভোটিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সাংবাদিক শফিক রেহমান প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নে দূতাবাসগুলোর ভূমিকা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দূতাবাসগুলো প্রবাসীদের সহায়তায় কতটা সক্রিয়, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।”
বক্তারা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। তাঁরা বিশ্বাস করেন, অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থা প্রবাসীদের জন্য একটি কার্যকর ও আধুনিক সমাধান হতে পারে।









